ইঞ্জিনিয়ার শেখ জাহিদ—একটি নাম, যার সঙ্গে রাজনীতি নয়, বরং কাজ, দায়বদ্ধতা আর মানুষের পাশে থাকার গল্প জড়িয়ে আছে। রাজবাড়ীর পাংশা–বালিয়াকান্দি আসন থেকে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে তিনি এবার নির্বাচনী মাঠে। তবে ভোটের রাজনীতিতে তার পরিচয় গড়ে উঠেছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়ে নয়, নীরবে কাজ করে মানুষের মন জয় করার মধ্য দিয়ে।

তরুণ এই প্রকৌশলীর বেড়ে ওঠা রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দির মাটি-মানুষের সঙ্গে। এলাকার ভাঙা রাস্তা, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থানের সংকট কিংবা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা—সবকিছুই তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। প্রকৌশলী হিসেবে পড়াশোনা শেষে তিনি যখন পেশাগত জীবনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনও এলাকার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোথাও রাস্তা সংস্কারে সহায়তা, কোথাও স্কুল-মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, আবার কোথাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এই কাজগুলো তিনি করেছেন প্রচারের আলো ছাড়াই।
রাজনীতিতে আসার পরও শেখ জাহিদের এই কাজের ধারা বদলায়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে আগে কাজের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়। তাই নির্বাচনী এলাকায় তিনি বক্তৃতার চেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন মানুষের কথা শোনায়। কৃষকের জমিতে নেমে সমস্যা দেখেছেন, তরুণদের সঙ্গে বসে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ভবিষ্যৎ নিয়ে। এসব জায়গায় তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে নয়, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন।
গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে শেখ জাহিদ তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করছেন এক ধরনের ভিন্ন রাজনীতির। তার রাজনীতির ভাষা সহজ, বাস্তবভিত্তিক। উন্নয়নের নামে শুধু বড় বড় প্রকল্পের কথা নয়, তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন টেকসই পরিকল্পনায়—যেখানে থাকবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব উন্নয়ন। প্রকৌশলী হিসেবে তার কারিগরি জ্ঞান এসব পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত করে তোলে।
শেখ জাহিদ মনে করেন, রাজবাড়ীর পাংশা–বালিয়াকান্দি অঞ্চল সম্ভাবনাময়, কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে আছে। ভোটে জিতলে তিনি এই এলাকাকে শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা হিসেবে নয়, একটি মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান—যেখানে উন্নয়ন মানে হবে মানুষের জীবনমানের দৃশ্যমান পরিবর্তন।

নির্বাচনী মাঠে এবার গণঅধিকার পরিষদের শেখ জাহিদ ‘চমক’ দেখাতে চান কথায় নয়, ভাবনায় ও কাজে। তরুণ প্রার্থী হিসেবে তার শক্তি বয়স নয়, তার শক্তি মানুষের সঙ্গে তার তৈরি করা বিশ্বাসের সম্পর্ক। রাজনীতিতে যখন অনেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ক্লান্ত করে তুলেছে, তখন শেখ জাহিদ কাজের হিসাব দিয়েই সামনে এগোতে চান।
এক্সফাইলস পত্রিকার এই প্রতিবেদন আসলে একজন প্রার্থীর নয়, একটি ভিন্ন ধারার রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। ইঞ্জিনিয়ার শেখ জাহিদ সেই প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা মনে করে—ক্ষমতা উন্নয়নের হাতিয়ার, আর উন্নয়ন মানেই মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন।
ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজবাড়ী-২ আসনে মনোনয়ন দাখিলকৃত ১২ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রে ত্রুটি থাকায় এসব প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে টিকে আছেন তুরণ প্রকৌশলী শেখ জাহিদ। সরাসরি চায়নার সঙ্গে ব্যবসায় বিশেষ সুনাম অর্জন করা শেখ জাহিদ লড়বেন ৭ জন বৈধ প্রার্থরি সঙ্গে। তারা হলেন বিএনপির হারুন-অর-রশিদ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সাবেক এমপি মোঃ নাসিরুল হক সাবু, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জামিল হিজাযী (সাইয়েদ জামিল), জাতীয় পার্টির মোঃ সফিউল আজম খান ও খেলাফত মজলিসের কাজী মিনহাজুল আলম।
বাতিলকৃত প্রার্থীরা হলেন : ইসলামী আন্দোলনের মোহাঃ আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মোঃ আব্দুল মালেক মণ্ডল, বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র সোহেল মোল্লা।
