বৃহস্পতিবার,

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২

XFilesBd

পরিবেশবন্ধু গৌতম রায়ের মুক্ত কলাম

এবারো ভোটাররা যেন পরাজিত না হয়- লিখেছেন গৌতম কুমার রায়

গৌতম কুমার রায়

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এবারো ভোটাররা যেন পরাজিত না হয়- লিখেছেন গৌতম কুমার রায়

এবারো ভোটাররা যেন পরাজিত না হয়

॥গৌতম কুমার রায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে গেল নিমিষেই। অনেক ব্যথা. অনেক কথা, ঘটনা, রটনা অতঃপর এলো নির্বাচন। তারপর তা শেষ হয়েও গেল। এবারের নির্বাচন অনেক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমতঃ আওয়ামীলীগের উপরে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিষেধের খড়গ। তারপর জামায়াতে ইসলামীর এই নির্বাচনে ক্ষমতায় আশাটা অবশ্যম্ভাবী বিষয়। নির্বাচনের মাঠ অনেকটাই ফাঁকা। মাঠের গোল পোস্টটা সোজা দাঁড়িয়ে। এবারেও তাদের জন্য হলো না কোন গোল। এবারে জামায়াতে ইসলামীদের চোখে স্বপ্ন ছিল ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টা। ওদের সভা সমাবেশ দেখে যে উপস্থিতি দেখা গেছে তাতে এই বিষয়টা নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু প্রসঙ্গে আমাকে একজন বলেছিলেন, দাদা যতটা সমাবেশ দেখছেন ভোটের বাক্সে কিন্তু ততটা থাকে না। কেন ? প্রশাœ করতেই উত্তর এলা, ওরা সমাবেশে মানুষ হাজির করে প্রথমতঃ ভাড়া করে। তারপর ওরা দেশের বিভিন্ন এলাকার জামায়াতিদেরকে প্রতিটা সভায় দলের দায়িত্বে হাজির করে থাকে।  আমি বলবো এর সাথে বড় যে বিষয়টা হলো, তাহলো, একাত্তরের চেতনার সাথে বাঙালির সম্পর্কটা নিবিড় এবং এতিহ্যের আবেগের। মহান মুক্তিযুদ্ধকে কোন ধর্মীয় কোমলতা দিয়ে বাঙালিকে বশে আনা সম্ভব না। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকে আঁকড়ে নিয়ে যে পতাকা। যে মানচিত্র এবং মাটির যে অধিকার তা কোন প্রভুর আদর্শে খামলে নেয়াটা এই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে এসে অসম্ভব। এখন উপলদ্ধির সময় হলো, স্বাধীন মা-মাটি-পতাকা- মানুষকে বরণ করে নিতেই হবে। একথা সত্য এই সময়, সুযোগ এবং সম্ভবনা কিন্তু সুদূর পরাহত। ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে যেমন জামায়াতে ইসলাম যেমন ৭১ ভুলের জন্য তাদের ভুল স্বীকার করেছে, আবার ২০২৬ এসে জামায়াতিরা ৫২ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাও জানিয়েছে। তবে বাঙালি পাকি এই খোঁয়াবীরা একটু দেরীতে তাদের চরিত্র সংশোধন করেছেন। ভালো কথা হলো তাঁরা তাদের দলে পাকিদের জন্ম-শত্রু সনাতনীদেরকে অন্তর্ভূক্ত করেছেন। অর্থাৎ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছেন। এখন তাদের উচিৎ পাকিস্তানের মোড়লিপনাকে আদর্শের মনন থেকে একেবারে ধুঁয়ে ফেলা। নির্বচন এবং নিয়ন্ত্রিত শক্তির এই সুযোগে জামায়াত যে সরকারী শক্তি গ্রহণ করতে পারলো না, সে সুযোগ আর আদৌ আসবে বলে ভবিষ্যৎ বাণি করাটাও কোন জ্যোতিষির পক্ষে সম্ভব নয়।

১২ ফেব্রুয়ারী সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগের দিন। সরকারের নির্বাহী আদেশে যেমন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, আবার যান চলাচলে বলবৎ হয়েছে বিধি নিষেধ। ছুটির আমেজে বাড়ীতে শুয়ে- বসে সন্ধ্যার সময় বাজারের দিকে রওনা হলাম। কুষ্টিয়ার শহরতলি চৌড়হাস ফুলতলা মোড়ের দিকে যেতেই ল্যাবরেটরী স্কুলের সন্মুখ ভাগ। তে রাস্থার মাথায় গিয়ে দাঁড়ালাম। হঠাৎ করে হন্ত-দন্ত হয়ে আমার দিকে অনেকটা দৌড়ে এগিয়ে এলেন আমার প্রতিবেশী বৃষ্টির মা। বললেন, “দাদা দেখেন আমাকে উনি থ্রেট দিচ্ছেন।তার আঙ্গুলটা যাকে নিদৃষ্ট করেছে, তিনি স্কুলেরই প্রধান আরিফুলের দিকে। তাঁর আরেকটা পরিচয় হলো, তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামে রাজনৈতিক দলের সক্রিয় ব্যাক্তি। আমি ওনাকে বলতে শুনেছি !“ নির্বাচনটা হতে দাও, তারপর দেখাব তোমার মজা।এপাশে ততক্ষণে বৃষ্টির মা মুখে বলতে শোনা গেলতোমরা ক্ষমতায় আসতে পারছো না। বিএনপি যাবে।আমি ইশারা দিয়ে আরিফুলকে চুপ করতে এবং চলে যেতে বললাম। তিনি চলেও গেলেন। এদিকে বৃষ্টির মাকে ইশারা দিয়ে বাড়ীতে যেতে বললাম। সেও চলে গেলেন। দুজনকে উদ্দেশ্য শুধু বললাম, রাজনীতি এবং ধর্ম  নিয়ে ফালতু কোন মন্তব্য করা ঠিক না। নির্বাচনে দেখা গেল কুষ্টিয়াতে নির্বাচিত হলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমীর হামজা। এখানে বৃষ্টির মা প্রার্থী পরাজিত। কিন্তু সামগ্রীক নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে জনতার ম্যান্ডেট পেয়েছে। এখানে আরিফুলের দল আসন পেয়েছে কম। আমি কিন্তু নির্বাচনের ফল জেনে সারাক্ষণ ভেবেছি ভোটে আসলে জিতলো কে ? আরিফুল নাকি বৃষ্টির মা। ভাবনার স্্েরাত মনে বইতে বইতে বাজারে এগিয়ে সেলুনে গেলাম। কাটিং শিল্পী আনিস আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, দাদা মনে হয় কিছু ভাবছেন। আসলেই বিচক্ষণ। বললাম হ্যাঁ। বললো কি ভাবছেন ? ওকে ঘটনাটা বিস্তারিত বললাম। সব শুনে আনিস বলল, এটা কোন বিষয়ই না। বললাম কেন ? ওর মতে, “আসলে কুষ্টিয়াতে জিতেছে আরিফুল ঠিকই, কেন্দ্রে জিতেছে বৃষ্টির মা। দেখতে হবেজনগণের ভোটে যেই জিতুক-না কেন, যেন সব সময়ের মত ভোটের পরে ভোটাররা পরাজিত না হয়।

আনিস, যার চলাফেরা এবং চিন্তা ভাবনা একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে। যে ভোট চেনে না, ভাত চেনে। রাজনীতি চেনে না, চেনে কাজ। কোন মিছিল-মিটিং নয়, ক্ষুর-কেঁচির ঝনঝন শব্দে চলে তার পেট। সে যদি বলে, “যেন ভোটাররা পরাজিত না হয়।তা হলে আমার মনে হয়, আমি এখনও জন্মের সার্থকতা পাই নাই। যেটা পেয়েছে আনিস। আনিসের ভাবনা আছে। তবে বিগত দিনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোন জবাবদিহীতা নেই। হয়তো এখনও নেই। তাহলে আনিসের কথায় ভোটের পরে ভোটাররা কেন পরাজিত হয়ে আসছে। পাড়া মহল্লায়, অলি-গলিতে কর্মীরা নেতাদেরকে বিশ^াস করে। তারা পরিশ্রম করে। তারা রাজনীতির চাকাকে সচল রাখে। তারা বিশ^াসের অপমৃত্যু হলে লজ্জা পায়। কিন্তু নেতারা ক্ষমতায় গেলে যৌবন ফিরে পায়। তাদের সাথে ভবিষ্যৎ ফেরে পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদেরও। বিকলাঙ্গ হয় দেশ। এদের অপকর্মের জন্য দায় বহন করে গোটা জাতি।  একটা সময় আসে বিশ^াস হারিয়ে কর্মীরা ঘরে উঠে। তাদের অভাব পিছু না ছাড়লেও নেতাদের ভোগ বিলাস মাত্রা ছাড়ায়। যারা সনাতনীদেরকে আপন বলে বুলি আওরিয়ে বেড়ায়, তাদের সময় অনেক পেড়িয়ে গেলেও সনাতনীদের উপর অব্যাহত অত্যাচার,খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, ভাঙচুড়, নির্দয় আচরনের বিচার হয় নাই কখনও। সনাতনীরা তাদের পছন্দের মানুষকে ভোট দিয়ে আসলেও তা হয়ে যায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির। হয়ে যায় নির্দিষ্ট মার্কার। তারা কবে সবার হবে, কেউ বলতে পারে কি! আবার ভোটে জিতে অবিশ^াসের নির্যাতন, ভোটে হেরেও অবিশ^াসের নির্যাতন। সবই হয় সনাতনীদের উপরে। কেন ! রাজনীতি কিংবা আন্দোলনের গতি বৃদ্ধি করতে হবে কেন সনাতনীদের উপর নির্যাতন করে হবে। সব মিলিয়ে এবারকার নির্বাচন এবং প্রেক্ষিতের জন্য বলবো অত্যাচার, নির্যাতন, মূর্খতা, ধর্মন্ধ্যতা, অবিশ^াস, গুজব,গজব, ফতোয়া দিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য উত্তেজনা মেটানো যায় বটে তবে তা দিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্টিত হওয়া যায় না। সেকথা অন্তঃত আজকে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে হলেও উপলব্ধিতে আসা উচিৎ নয় কি ?

লেখক: গবেষক, উদ্ভাবক পরিবেশ বিঞ্জানী