শুক্রবার,

৩১ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ১৫ ১৪৩৩

XFilesBd

কুমারখালীর শিল্প বাণিজ্য ও সংস্কৃতির রক্ষার জন্য এ সেতু

কুষ্টিয়া-শিলাইদহ কুঠিবাড়ি সড়কে গড়াই নদীর ওপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেতু চাইলেন এমপি প্রার্থী তরুন ঘোষ: জনগণের বিপুল সমর্থন।

আবু সাহিদ, কুষ্টিয়া থেকে

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২ মে ২০২৬

আপডেট: ০১:৪৭, ৪ মে ২০২৬

কুষ্টিয়া-শিলাইদহ কুঠিবাড়ি সড়কে গড়াই নদীর ওপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেতু চাইলেন এমপি প্রার্থী তরুন ঘোষ: জনগণের বিপুল সমর্থন।

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিগত নির্বাচনে এমপি পদপ্রার্থী বাবু তরুন কুমার ঘোষ। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে নিজের উদ্যোগে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে কিভাবে যুক্ত আছেন। কুমারখালী উপজেলা শিল্প, বাণিজ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, ফকির লালন সাঁইয়ের মাজার, মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা এবং কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের মিউজিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি থাকলেও যাতায়াতের জন্য ভালো ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে পর্যটক এবং স্থানীয়দের নৌকায় করে গড়াই নদী পার হতে হয়, যা বেশ কষ্টকর ও অনিরাপদ।

এই জনদুর্ভোগ কমাতে গড়াই নদীর ওপর একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (LGED) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাঠকের জন্য নিচে চিঠিখানা হবহু তুলে ধরা হলো:

বরাবর, মাননীয় মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা, বাংলাদেশ।

বিষয়: দেশি-বিদেশি পর্যটক জনসাধারণের যাতায়াত সুবিধার্থে কুষ্টিয়া শহর  ‘শিলাইদহ কুঠিবাড়ি সড়কে গড়াই নদীর উপর LGED মাধ্যমে বিশ্বমানের "বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেতু" নামকরণে নির্মাণ প্রসঙ্গে।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি তরুন কুমার ঘোষ, আমাদের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন গ্রামে নিজ অর্থায়নে কৃষি, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কাজ করে যাচ্ছি। পরিবেশবান্ধব শত শত ফলগাছ উৎপাদনের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘবৎসর ধরে সমাজের সেবা কাজে অবদান রেখে আসছি। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। "সাবেক মহকুমা" কুমারখালী কুষ্টিয়া জেলার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই উপজেলায় শিলাইদহে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক কুঠিবাড়ি, ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়া, বিষাদ সিন্ধু রচয়িতা সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা ছাড়াও কুমারখালী প্রাচীনতম পৌরসভা যা ১৮৬৯ সালে স্থাপিত। যেখানে প্রখ্যাত সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের বাস্তুভিটা ও জাদুঘর অবস্থিত। তদুপরি গগণ হরকরা, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরামসহ অনেক মনীষীর স্মৃতিবিজড়িত স্থান এখানে রয়েছে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে কুমারখালী শহর দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ও নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এত গুরুত্বপূর্ণ এই কুমারখালী উপজেলার অন্তর্গত শিলাইদহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি অবস্থিত। উক্ত ব্রিজটি না হওয়ার কারণে বহু বৎসর যাবৎ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠি বাড়ি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য সহজ কোন পথ নেই। গড়াই নদীতে আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিজ নির্মাণ হলে কাঙিক্ষত সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পেতো।

অতএব মহোদয়ের নিকট আবেদন দেশি-বিদেশি পর্যটক ও এলাকাবাসীর নৌকায় পারাপারে ভোগান্তি ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রোধকল্পে দেশের উন্নয়ন এবং জনসাধারণের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করুন। যাতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও পর্যটনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে গড়াই নদীর উপর আধুনিকমানের ব্রিজটি। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে নামকরণর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এলাকাবাসীর পক্ষে,

তরুন কুমার ঘোষ, তরুণ বাবু সড়ক, নগরকয়া, পান্টি, কুমারখালী, কুষ্টিয়া। 

উল্লেখ্য, তরুন কুমার ঘোষ মাইনোরিটি জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। ইতোমধ্যে এলাকায় তিনি বহুমাত্রিক সমাজকর্ম করে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর নানাবিধ কর্মকাণ্ডের কারণে নিজের এলাকায় তাঁর নামে একটি সড়কেরও নামকরণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাঁর এই আবেদন বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তরুন কুমার ঘোষের নির্বাচনী এলাকা খোকসা-কুমারখালীর সাধারণ জনতা ইতোমধ্যে এ দাবির প্রেক্ষিতে মিছিল করেছে। পান্টি বাজারে তাঁকে ঘিরে উক্ত দাবির পক্ষে সমাবেশ করেছে স্থানীয় জনগণ। সংস্কৃতিমন্ত্রী বাবু নিতাই রায় চৌধুরী সেতুর পক্ষে তরুন ঘোষের করা আবেদনে সুপারিশ করেছেন। এলাকাবাসী অভিমত, দীর্ঘদিন পর তাঁদের প্রাণের দাবির পক্ষে একজন জনদরদী পাওয়া গেছে। যিনি এলাকার মানুষের পালস বুঝতে পেরেছেন। কারণ তাঁরা রিলিফ চান না, তাঁরা চান সহজ যোগাযোগের মাধ্যম, যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন।