রোববার,

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ৪ ১৪৩৩

XFilesBd

চিকিৎসকদের রক্ত ঝরার ঘটনায় বিপিএমসিএ’র উদ্বেগ: কুমিল্লার ইস্টার্ণ মেডিকেলে সন্ত্রাসী হামলায় শীর্ষ নেতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৪৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২২:৫৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিকিৎসকদের রক্ত ঝরার ঘটনায় বিপিএমসিএ’র উদ্বেগ: কুমিল্লার ইস্টার্ণ মেডিকেলে সন্ত্রাসী হামলায় শীর্ষ নেতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি

ইস্টার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন-বিপিএমসিএ। জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ডা. শেখ মহিউদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।   

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কুমিল্লার ইস্টার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালায় রোগীর স্বজন পরিচয় দেয়া সন্ত্রাসীরা। ন্যাক্কারজনক সে হামলায় রক্তাক্ত হন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. নাঈম ও মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট মিজান। আহত হন ডা. আজহার হক বাপ্পী, ডা. সামির, ডা. হিরামন, একজন নার্স ও দুজন স্বাস্থ্যকর্মী। মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন পরিচয়ে প্রকাশ্যে এই সন্ত্রাসী হামলা দেশের স্বাস্থ্যবিভাগকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে বলে মনে করে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)।

সংগঠন মনে করে, কুমিল্লার ইস্টার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘটনাটি দেশের লাখ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার ও নার্সদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মকাণ্ড ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। রোগী মৃত্যুর নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক কোন প্রমাণের তোয়াক্কা না করে ডাক্তারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া নিছক অপরাধ নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ার পূর্বাভাস। একটি সভ্য সমাজে চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা এবং মুমূর্ষু রোগীসেবার কেন্দ্রস্থল ইমার্জেন্সি বিভাগকে রণক্ষেত্রে পরিণত করার এই সংস্কৃতি কঠোরভাবে দমন করা না হলে হাসপাতাল থেকে সেবার প্রদীপ নিভে যাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) প্রেসিডেন্ট ডা. শেখ মহিউদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মো: মোয়াজ্জেম হোসেন।

উল্লেখ্য, তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা মুমূর্ষু নারী রোগীকে ঘটনার রাতে নিয়ে আসা হয় কুমিল্লার ইস্টার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা করে রোগীকে 'মাইওকার্ডিয়াল ইনফার্কশন' (তীব্র হার্ট অ্যাটাক) হিসেবে চিহ্নিত করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐ রোগীকে সিসিইউ সুবিধাসম্বলিত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মিজানুর রহমান ক্যানুলার মাধ্যমে নিয়মানুযায়ী ‘ইনজেকশন প্যানটিড ৪০ মিলিগ্রাম’ (প্যান্টোপ্রাজল) প্রদান করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হলে তার সন্তানেরা ডাক্তার, মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ও নার্সদের ওপর স্টিলের চেয়ার দিয়ে একের পর এক আঘাত করেন। কিল ঘুষি মারেন অন্যরা। এ ঘটনায় ডা. নাঈম ও মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট মিজান মারাত্মকভাবে জখম হন।

   

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) প্রেসিডেন্ট ডা. শেখ মহিউদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মো: মোয়াজ্জেম হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, জরুরি বিভাগে নিয়োজিত ডাক্তারদের ওপর হামলার কারণে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সবাইকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। মুমূর্ষু কোন রোগী মৃত্যুর ছুতো ধরে হাসপাতালে হামলা, যন্ত্রপাতি ভাংচুর ও বিল পরিশোধ না করার প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিটি ব্যক্তিই কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সর্বদা উদগ্রীব থাকেন। তারপরও তাদের বিরুদ্ধে যখন-তখন রোগী মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। এমনকি প্রকাশ্যে চালানো হয় হামলা। করা হয় মারধোর। এতেকরে ভূক্তভোগী ডাক্তার, নার্সদের জন্য ঘটনাস্থলে চাকরি করা সমীচীন হয়ে ওঠে না। 

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) প্রেসিডেন্ট ডা. শেখ মহিউদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মো: মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। অবিলম্বে এমন হঠকারিতা যদি বন্ধ না হয় তাহলে বুঝতে হবে- আমরা চরম এক অসহিষ্ণু ও ভারসাম্যহীন সমাজে বাস করছি। এমন হামলা স্বাস্থ্যখাতের ভঙ্গুর নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই বারংবার জানান দিচ্ছে।  

বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ডাক্তাররা সার্বক্ষণিক রোগীদের জীবনরক্ষায় নিয়োজিত থাকলেও প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা, ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক হামলার শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনার রেশ চিকিৎসকদের কর্মস্পৃহা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে। হামলা ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে সংকটাপন্ন রোগীর সেবা দিতে আগ্রহ হারাবেন ডাক্তাররা। এমনকি সিরিয়াস রোগীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধান্বিত হবেন- যার চূড়ান্ত খেসারত শেষতক জনগণকেই দেয়া লাগতে পারে।

প্রতিবাদলিপিতে নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, চরম সংকটে পড়ে গভীর আস্থা নিয়ে মানুষ হাসপাতালে আসে।সেখানে ডাক্তার, নার্সদের নিরাপত্তা থাকলেই কেবল অধিকতর চিকিৎসাসুবিধা পাবে সকল শ্রেণি পেশার রোগী। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) অবিলম্বে ইস্টার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলাকারীদের আইনি প্রক্রিয়ায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছে।