বুধবার,

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

|

আশ্বিন ৭ ১৪২৮

XFilesBd

শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রী ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন আজ মুম্বাইয়ের ভবনধসে ১১ জনের মৃত্যু; আহত ৭ অবশেষে কারামুক্ত সাংবাদিক রোজিনা পাসপোর্ট জমার শর্তে জামিন পেলেন রোজিনা রোজিনার জামিনে প্রমাণিত হয়েছে আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন : ওবায়দুল কাদের দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে জনগণকে বেশি সচেতন হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ফিলিস্তিনে বিজয় মিছিল পল্লবীতে খুনের মামলার আসামি মানিক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত গাজায় যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হলো ইসরাইল রোজিনার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সাংবাদিকদের ধৈর্য ধরার আহবান ওবায়দুল কাদেরের রোজিনা ইসলামের মামলা ডিবিতে হস্তান্তর সাংবাদিক রোজিনার রিমান্ড নামঞ্জুর শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস কাল লকডাউনের মেয়াদ বাড়ল ২৩ মে পর্যন্ত নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ নেই: স্বরাষ্টমন্ত্রী আজ থেকে সড়কে গণপরিবহন চালু শিবচরে বাল্কহেড ও স্পিডবোট সংঘর্ষ, নিহত ১৭ অতিরিক্ত ডিআইজি হলেন হারুন-অর-রশিদ করোনায় দরিদ্রদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি টাকা ব্যক্তিগত অনুদান রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মৃদৃ ভূমিকম্প অনুভূত করোনা মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : ওবায়দুল কাদের পুলিশ ৬ ডায়েরি উদ্ধার করেছে মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে মে মাসেই আসতে পারে রাশিয়ার টিকার ৪০ লাখ ডোজ করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহী চীন ‘মামুনুলকে জামিন দিলে আবারও জ্বালাও-পোড়াও হতে পারে’ ২৬ বছরের ইতিহাসে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আজ চলমান লকডাউন থাকবে আরও ৭ দিন কুয়েতে পাপুলের কারাদণ্ড আরও ৩বছর বাড়লো দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত কওমি মাদ্রাসায় সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করোনা মোকাবেলায় ৫৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী করোনাকালীন সহায়তা পাবেন দুই হাজার সাংবাদিক ঈদের জামাত বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২৭ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আবারও কঠোর লকডাউন : ওবায়দুল কাদের আগামী মে মাসে ২১ লাখ টিকা পাবে বাংলাদেশ করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১০২ জন মৃত্যুর রেকর্ড দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক গ্রেফতার দেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১০১ জনের মৃত্যু বিশ্বব্যাপী করোনার তাণ্ডব থামছে না শনিবার থেকে ৫টি দেশে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটে চালু খালেদা জিয়া চিকিৎসা নেবেন বাসায় থেকেই সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সমাহিত মতিন খসরু খালেদা জিয়াকে ‘হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে’ দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়িয়েছে চিরায়ত বৈশাখের উৎসবে নেই প্রাণের উন্মাদনা দেশে ৮ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু একুশে টেলিভিশনের একুশতম জন্মদিন আজ করোনা পরিস্থিতিতে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন হবে প্রতীকী তারাবীসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক আর নেই খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত : স্বাস্থ্য অধিদফতর চলমান লকডাউনের ধারাবাহিকতা চলবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল : ওবায়দুল কাদের করোনায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৭ জনের মৃত্যু ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে সরকার-জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী করোনায় কর্মহীন মানুষদের জন্য ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ মানুষকে বাঁচাতে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আভাস প্রধানমন্ত্রীর আগামীকাল ৯-৫টা শপিংমল-দোকান খোলা থাকবে বাংলাদেশকে এক লাখ ডোজ করোনার টিকা উপহার দিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড টেক্সাসেই দাফন হবে সেই বাংলাদেশি পরিবারের লাশ জনসমাগম এড়িয়ে ভার্চুয়ালি নববর্ষ উদযাপন করতে হবে ভ্যাকসিন নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনায় আক্রান্ত বুধবার থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস চলবে : ওবায়দুল কাদের করোনা মোকাবেলা করাই সরকারের চ্যালেঞ্জ : সেতুমন্ত্রী করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড রমজানে অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা এসএসসির ফরম পূরণ স্থগিত লকডাউনের কারণে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়নের পূর্বশর্ত : প্রধানমন্ত্রী করোনায় একদিনে দেশে শনাক্তের রেকর্ড ৭০৮৭, মৃত্যু ৫৩ আগামীকাল থেকে গণপরিবহন বন্ধ : ওবায়দুল কাদের সংসদ সদস্য আসলামুল হক মারা গেছেন এক সপ্তাহের লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগা আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে : ওবায়দুল কাদের নোভাভ্যাক্স ভ্যাকসিন মারাত্মক কোভিডের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকরী দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র ৭ মার্চ পালনের ঘোষণা রাজনৈতিক ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয় : ওবায়দুল কাদের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ প্রতিবেশী দেশের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করোনার ভ্যাকসিন নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু ২৪ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে থেকে কীভাবে খোলা যায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ঢাবির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু ৮ মার্চ টিকাদান কার্যক্রমে ৪শ’ কোটি মার্কিন ডলার সহযোগিতার অঙ্গীকার বাইডে রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার আশ্বাস ব্যবসায়ীদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ঢাকার আকাশে উড়বে ৮০০ ড্রোন নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের দল ঘোষণা নোয়াখালির কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জা-বাদল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিভাতা ২০ হাজার টাকা করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর রবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জরুরি তলব বিএসইসির সারাদেশে এ পযর্ন্ত করোনা টিকা নিয়েছেন ১১ লক্ষাধিক মানুষ ইয়েমেনে দেড় কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে: জাতিসংঘ সশস্ত্র বাহিনীকে বাধা দিলে ২০ বছর পর্যন্ত কারদণ্ড পটিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই নিহত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারও বাড়বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঢাকা টেস্টে দ্বিতীয় দিনেই চাপে বাংলাদেশ আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ হবে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে: তথ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানো হবে : শিক্ষামন্ত্রী শীতের আবহ আরও সাত দিন থাকতে পারে সারাদেশে এ পর্যন্ত করোনা টিকা নিলেন ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৯ জন মানুষ আদর্শবিহীন রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না :প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে তৃতীয় দিনে টিকা নিলেন ১ লাখ ৮২ জন যেকোনো সময় খুলবে স্কুল, টিকা নিতে হবে শিক্ষকদের ভিন্ন ইমেজের সিনেমায় তাহসান বিএনপির আন্দোলন হবে কোন বছর, জানতে চান ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণেই মাত্র ৫ ডলারে ভ্যাকসিন পাচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষ : আইনমন্ত্রী সারাদেশে প্রথম দিনে টিকা নিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন আগামীকাল সারাদেশে টিকা বিতরণ শুরু, এখন পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরায় প্রচারিত ‘All the Prime Minister’s Men’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদলিপি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত এক শিল্পীর জীবনকথা মোবাইল অতি-আসক্তি : চক্ষু হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী কৃষি ভিত্তিক শিল্প আমরা গড়ে তুলতে চাই-প্রধানমন্ত্রী টিকা বিতরণে এখনও উন্মুক্ত হয়নি মোবাাইল এ্যাপ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১২ জনের মৃত্যু শিশুর হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার পূর্বে করণীয় কি ? রাশিয়ার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ৯২ শতাংশ কার্যকর মিয়ানমারের নতুন করে নিয়োগ পেলো এগারো মন্ত্রী সাকিবের খেলা নিয়ে যা বললেন কোচ শব্দ করে পড়ার অভ্যাস আমাদের ঐতিহ্য : ড. আরেফিন সিদ্দিক চীনে তৈরি হচ্ছে ভুয়া ভ্যাকসিন’,গ্রেফতার ৮০ বাংলাদেশ আশা করছে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত থাকবে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এখন সময়ের দাবি বাংলাদেশের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠি বাংলাদেশের কাছে করোনা টিকা চায় হাঙ্গেরি ও বলিভিয়া তীব্র শীতের কবলে দেশ মিরপুরে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ফলাফলের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েত নিষিদ্ধ

স্বশিক্ষায় শিক্ষিত এক শিল্পীর জীবনকথা

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

স্বশিক্ষায় শিক্ষিত এক শিল্পীর জীবনকথা

ছবি: অগ্নিস্নান

চরহরিপুর গ্রামের তিনদিকেই নদী; বর্ষায় স্রোতে ভাসে। শুকনোয় ধু ধু আদিগন্ত নি:সীম। সে এক নিরাভরণ প্রকৃতি। যে নদের ছলাত-ছলাত সুর আড়ি-আড়ি ডাকত সেটি ঝিনাই। প্রতিদিন পাল উড়াত মাঝিরা। ঝিনাই আবার ব্রহ্মপুত্রের শাখা। বৈঠায় ঢেউ কাটত, বিচিত্র জাল ফেলে জেলে ধরতো মাছ। বর্ষায় প্রকৃতির ঢেউয়ে ভেসে ভেসে নিজের মতো করে নিজেস্ব এক আলপনা এঁকে চলেছেন কাদামাটির সন্তান নূর উদ্দিন আহম্মেদ লাভলু। 

ছবি আঁকেন গুলশানের আর্ট গ্যালারিতে। বিক্রিও সেখানে-ডিসিসি মার্কেটের দোতলায়। যেখানে দেশের প্রত্থিতযশা গুণীজনেরা বিক্রির জন্য ছবি রেখে আসেন। কিংবদন্তিতূল্য এসব শিল্পীদের না হয় শিক্ষা-সার্টিফিকেট আছে। কিন্তু নূর উদ্দিন লাভলুর কিছু নেই। মেট্রিক পরীক্ষা দেয়ার আগেই সংসারে হাল ধরতে হয়েছিল। চোখে দেখা প্রকৃতিই তাঁর পরম স্কুল, বাতাসের ঝিরিঝিরি, আকাশের রঙ যেনো তাঁর স্কুলের বই-খাতা। সুতরাং তাঁর দীক্ষাস্থল মনে-মননে, মস্তিষ্ক-ভাবনায়। আর অপরাপর শিল্পীদের স্নেহ, প্রেম তাঁর জন্য মানসিক প্রণোদনা। এই নিয়েই এগিয়ে চলছে স্কুলের গন্ডি পেরুনো নূর উদ্দিন লাভলু।

গুলশান দুইয়ের ডেকোরিয়াম গ্যালারির স্বত্বাধিকারী নূর উদ্দিন লাভলু। অনেকদিন ধরে ইয়ার্ট গ্যালারি মালিক ইয়াকুব আলীর সংস্পর্শে ছিলেন। সন্তানের মতো জড়িয়েছেন ভালোবাসায়-প্রেমে-অদৃশ্য বন্ধনে। ইয়ার্টের ইয়াকুব সাহেব মারা যাবার পর তাঁর স্ত্রী সালমা ইয়াকুব গ্যালারিটির দায়িত্বও দিয়ে রেখেছেন নূর উদ্দিনের উপর। অখ্যাত অজপাড়াগ্রাম থেকে আসা নূর উদ্দিন এখন আঁকেন বিচিত্র সব ছবি। যাতে প্রতিভাত হয় বাংলার অসীম সৌন্দর্য। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে কদর পেয়েছে তাঁর আঁকা পুরণো ঢাকার বিচিত্র অবয়ব। যা বাস্তবের চেয়েও অতিবাস্তব। 

নারায়ণগঞ্জ আর্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বিখ্যাত শিল্পী সমীরণ চৌধুরী বলেন-‘চিত্রকরের জন্য পুঁথিগত শিক্ষার চেয়ে অধিবিদ্যা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। সেটি নূর উদ্দিন প্রমাণ করে দেখিয়ে দিলেন। কারণ পুরনো ঢাকার ছবি এতো হৃদয় দিয়ে, ভালোবেসে, জীবন্ত করে আগে কেউ এঁকেছে বলে মনে হয় না।’

নূর উদ্দিন লাভলুর বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার চরহরিপুর গ্রামে। ছোটবেলার স্মৃতি হাতরে নূর উদ্দিন বলেন, আমার গাঁয়ের তিন পাশেই নদী। জলের স্রোতে ভেসে সাঁতার কাটা, সবুজ ধানখেত, শিশুদের উদ্দামতা, দামাল রাখালদের ছুটে চলা-সবই চোখে ভাসে। স্কুলে যাই, চারপাশ দেখি-বাড়িতে ফিরে পেন্সিল দিয়ে স্কেচ করি। কখনো আবার কালার কলমের ছোঁয়ায় আকাশের চাঁদটাকে রঙের মিশেল দেয়ার চেষ্টা করি। এভাবেই পরিচয় ছবির সাথে, আঁকার সাথে। 

বাড়ির কাছে একটি নদী আছে-নাম তার ঝাড়কাটা। আরও আছে চতলবিল। প্রকৃতি যেনো সবটুকু আমার জন্যই নিয়ে গিয়েছিল চরহরিপুরে গাঁয়ের আশপাশে। সন্ধ্যার পর গাঁয়ের সবাই ঘুমিয়ে পড়তো। ঝিঁঝিঁ ডাকত একনাগাড়ে। শেয়ালের দল হাঁকাত। কতো শত পাখির আনাগোনা পাড়ার ঝাড়ঝোপে। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র থেকে পালক উড়িয়ে ছুটে আসতো নাম না জানা পাখির দল। দেখতাম আর ভাবতাম, নাম না জানা এ পাখিটার ছবি যদি আঁকতে পারতাম!

 

নূর উদ্দিন বলেন-‘বড় হতে থাকি আর দরিদ্র চাপতে থাকে। পড়লেখা একসময় নির্মম হয়ে ওঠে। আমার এক দুলাভাই ঢাকায় ছবির ফ্রেম করতেন। ডাক পড়লো সেখানে। এই আমার ঢাকায় আসা। ইঁট কংক্রিটের নগরে প্রথম পা ফেলা। 

১৯৯০ সালে ঢাকায় এসে তিন বছর পর হক আর্ট গ্যালারিতে চাকরি জোটে। সোলমাইদের বাসিন্দা হক সাহেব তাঁকে খুব আদর করতেন। শিল্পীদের কাছ থেকে ছবি কিনতেন আর বিক্রি করতেন। প্রতিদিন গুণীজনেরা আসেন হক গ্যালারিতে। দেখেন, শোনেন আর রং তুলির খবরাখবর নেন। 

ক্রমশ: তুলির আঁচরের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। ফাল্গুন-চৈত্রের দুপুরগুলোতে খাবারের পর সবাই ঝিমোতেন। এই ফাঁকে নূর উদ্দিন তুলি আর ক্যানভাসের সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্যতা।  টেবিলে রাখা ফ্লাস্ক, টিফিন বাটি, থালাবাসন আর সন্ধ্যাবেলার প্রদীপ আঁকতেন নিমগ্ন হয়ে। অন্যদের শিল্পকর্মে তখন ফুটে উঠতো গ্রামীণ জীবন, কৃষক, আবহমান বাংলার বিপ্লব-বিদ্রোহ-সংগ্রাম আর প্রতিকূলতার প্রতিচ্ছবি। 

নূর উদ্দিনের জানা ছিল সাধক শিল্পী সুলতান সম্পর্কে। অভাবের তাড়নায় ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রাবস্থায় যিনি পাঁচ বছরের মাথায় পড়ালেখা ছেড়ে বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ ধরেছিলেন। দালানে দালানে ছবি আঁকার ভেতর দিয়েই বহি:প্রকাশ মহান এই কিংবদন্তির। মনের ভেতরে ভেতরে শিল্পী সুলতানকে প্রণতি জানান নূর উদ্দিন।

এভাবে ফ্রেম করতে করতেই ছবির ভুবনে হাতেখড়ি। একের পর এক পরিচয় ঘটতে থাকে বহু নামি-দামি শিল্পীদের সাথে। গুলশান ডিসিসি মার্কটের দোতলা তখন অনবদ্য-অনন্য শিল্পীদের আনাগোনা। এই সময়ে টানা আট বছর তিনি কাজ করেন হক আর্ট গ্যালারিতে। 

প্রফেশনালি ছবি আঁকা শুরু করেন ১৯৯৯ সালে। দিনভর গ্যালারিতে ছবি আাঁকার পর রাতভর বাসায় ফিরে তুলিতে রং বোলাতেন। ভোরে এক পশলা ঘুম দিয়ে আবার গুলশান গ্যালারিতে। এভাবেই চলতে থাকে বেশ ক’বছর। ২০০১ সালে ইয়ার্টের মালিক মারা যান। অতপর তাঁর স্ত্রী সালমা ইয়াকুব একটা বড় ধরণের সুযোগ করেন দেন নূর উদ্দিনকে। বহু দিনের বিশ্বস্ত নূরকে জায়গা করে দেন নিজের গ্যালারিতে। একপাশে ছবি আঁকতেন অপরপাশে ডিসপ্লে। 

এই সময়ের আগে-পরে শিল্পী নূর উদ্দিন আহম্মেদ লাভলু নিজের ছবি নিজের গ্যালারিতে রাখতে পারতেন না। শিল্পীদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে হিংসা করতেন। বলতেন, ফ্রেম মিস্ত্রি থেকে এ্যামেচার। সে আবার চিত্রশিল্পী। তার ছবিও আবার গ্যালারিতে! জাত গেলো, জাত গেলো!! সময়ে অসময়ে ফোঁড়ন কাটতেন কেউ কেউ। তবে তা সংখ্যায় একেবারেই নগন্য।

২০০১ সালের শেষের দিকে একসাথে ৭টি ছবি গ্যালারি ইয়ার্টে জমা দেয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে তা বিক্রি হয়ে যায়। এই ইয়ার্টের ইয়াকুব-সালমা দম্পতি তাঁর জীবন পাল্টে দিয়েছে বলে দাবি করেন নূর উদ্দিন। এভাবে ক্রমশ কদর বাড়লো স্বশিক্ষায় শিক্ষিত নূরউদ্দিনের। 

নূরউদ্দিন এখন বেশ ব্যস্ত শিল্পী। জামালপুরের সরিয়াবাড়ির নিভৃতগ্রাম চরহরিপুর থেকে ঢাকায় এসে তিনি এখন ডেকোরিয়াম গ্যালারির মালিক। গ্রাম থেকে ঢাকায়  এলেও তাঁর তুলি আঁচরে সবচেয়ে বেশি প্রতিভাত পুরোণ ঢাকার নানামাত্রিকতা। ঘিঞ্জি রাস্তা, তারের জট, সরু বিল্ডিং, মানুষের ভিঁড়ে এক অন্যরকম ঐতিহ্য। যেনো ৪০০ বছরের ঢাকা নতুন করে উদ্ভাসিত নূর উদ্দিনের রঙে। বিদেশিদের কাছে এই ছবির মর্যাদাও তাই অনেক। 

নূর উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ নেভি, সেনাবাহিনী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর এসব ছবির ক্রেতা। ’

নূরের স্ত্রী নাসরিন আক্তার কিরণ। তিনি শিল্পী নন। কিন্তু অসাধারণ ক্যানভাস করেন। মাঝেমধ্যে তুলির ছোঁয়াও দেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ের পর কিরণ গ্রামেই ছিলেন। এখন অভাব ঘুচেছে। তাই তিন মেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে থাকেন ঢাকার বাড্ডা এলাকায়। বাচ্চারা সবাই পড়ালেখা করছে। বড় মেয়েরাও মায়ের সঙ্গে ক্যানভাস রেডি করতে পারে। 

কথাপ্রসঙ্গে নূর উদ্দিন বলেন, তার তুলিতে সবচেয়ে ভালো খেলে অয়েল পেইন্টিং, ফিগারেটিভ, ওয়াটার কালার। এ্যাবস্ট্রাক্ট হয়, তবে অনেক সময় মনের মতো হয়ে ওঠে না। এ্যাক্রেলিক তার ভালোবাসার পরম আধার।  এ যাবৎ ৩৫০০ মতো ছবি বিক্রি করেছেন। এর বেশিই পুরোণ ঢাকা। কেনো যেনো নূর উদ্দিনের আঁকা ওল্ড ঢাকা সবার নজর কাড়ে। সাম্পতিক কিছু রিয়েলিস্টিক আঁকছেন। এদেশের মানুষ ফিগারেটিভ খুব বেশি পছন্দ করেনা বলেই মনে হয় তাঁর। তবে সবমিলে শীঘ্রই একটি প্রদর্শনী দেয়ার ইচ্ছে রয়েছে।

 নূর উদ্দিনের ছবির ক্রেতাদের অন্যতম গুলশানের বাসিন্দা আদনান হোসেন। কথাপ্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার মা এন্টিক পছন্দ করেন। আমাদের বাড়ি ঢোকা থেকে হেঁসেল ঘর অব্দি বিভিন্ন ধরণের এন্টিক আর নূর উদ্দিনের ছবি দিয়ে ভরা। আমার পুরো পরিবার নূর উদ্দিনের ছবির ভক্ত। ওর নতুন কোন ছবি ভালো লাগলেই আমরা কিনি। অনেক ছবি পরিচিতজনদের  উপহার দিই। 

ব্যতিক্রমী এই শিল্পী সম্পর্কে বলতে গিয়ে অধ্যক্ষ সমীরণ চৌধুরী বলেন, ‘নূর উদ্দিন রঙের মিশেলটা বোঝে। ওর পড়ালেখার দৌড় নেই, তাই অহঙ্কারের লেশমাত্রও নেই। আমাদের মতো কিছু শিক্ষিত শিল্পী দেখি ওকে খুব হিংসে করে। আমি হাসি তাদের কপটতা দেখে। এবং কষ্ট পাই। আমার বিশ্বাস স্বশিক্ষায় শিক্ষিত শিল্পী নূর উদ্দিন একদিন সব মানুষের হৃদয় জয় করবে। সেদিন বোদ্ধা শিল্পীরাও ওকে বুকে টেনে নিবে।’

শিল্পী নূর উদ্দিন বলেন, ‘আমি মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে গুরুত্ব দেই, শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি।’

লেখক- অখিল পোদ্দার, হেড অব ইনপুট, একুশে টেলিভিশন লিমিটেড (ইটিভি)